নতুন অনুসন্ধান, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র পুনর্মূল্যায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে তৎপরতা
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আমদানি নির্ভরতার পরিবর্তে দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে সরকার। নতুন অনুসন্ধান ব্লক চিহ্নিত করা, পুরোনো ক্ষেত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়লে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় সরবরাহ স্থিতিশীল হবে। ঘন ঘন গ্যাস সংকটের ঝুঁকি কমবে এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
দেশীয় সম্পদ ব্যবহারে সরকারের লক্ষ্য: দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান
সরকার বলছে, দেশের নিজস্ব গ্যাসসম্পদ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। এতে কয়েক বছরের মধ্যেই জ্বালানি সংকট অনেকটা কমে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমবে। কারণ এলএনজি আমদানিতে প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিগত সরকারের ভুল নীতি, অনুসন্ধানে অনাগ্রহ ও আমদানি-নির্ভরতা জ্বালানি খাতকে পিছিয়ে দিয়েছে কমপক্ষে এক দশক।
১৫০ কূপ খননের বৃহৎ পরিকল্পনা
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়—
-
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০টি কূপ
-
২০২৬-২৮ সালের মধ্যে আরও ১০০টি কূপ
খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, যেসব গ্যাসক্ষেত্র বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সম্ভাবনাময় এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হবে। এতে প্রতিদিন ৬০০–১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানির অগ্রগতি
বাপেক্স
-
জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপে বাণিজ্যিক গ্যাস আবিষ্কার—এটি ব্লক-৮ এর প্রথম সাফল্য
-
রিজার্ভ নিরূপণে আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)
-
সিলেট-১০ কূপ খননে তেলের উপস্থিতি শনাক্ত
-
বাণিজ্যিক উত্তোলন যাচাইয়ে সিলেট-১২ কূপ খনন শুরু
ভোলা গ্যাসক্ষেত্র
-
১৯টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন
-
গ্যাস স্থানীয় শিল্প এলাকায় সরবরাহ করলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে
বিজিএফসিএল
-
তিতাস ও বাখরাবাদে ২টি গভীর কূপ খনন
-
বাপেক্স শ্রীকাইল ও মোবারকপুরে আরও ২টি গভীর কূপে কাজ চলছে
খনন ত্বরান্বিত করতে বাপেক্সের নিজস্ব ৫টি রিগের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক আরও ৩টি রিগ যুক্ত হয়েছে।
তিতাস–ভোলা অঞ্চলে নতুন খনন সূচি
-
২৭ নভেম্বর ২০২৫: তিতাস-২৮ উন্নয়ন কূপে খনন শুরু
-
জানুয়ারি ২০২৬: তিতাস-৩১ ডিপ অনুসন্ধান কূপে কাজ শুরু
-
ভোলায় আরও পাঁচটি কূপ খনন চূড়ান্ত পর্যায়ে
পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম খান বলেন—
“দেশীয় উৎপাদন বাড়লে জ্বালানি সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে। শুধু ভোলার ১১টি কূপ খনন শেষ হলে প্রতিদিন প্রায় ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব।”
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ড. ইজাজ হোসেন, অধ্যাপক, বুয়েট
“অনেক দিন ধরেই স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছিল। পূর্ববর্তী সরকার এসব শোনেনি। অন্তর্বর্তী সরকার দেরিতে হলেও সঠিক পথে হাঁটছে।”
ড. বদরুল ইমাম, সভাপতি, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতি
“ভুলনীতির কারণে জ্বালানি খাতে আজ বড় খেসারত দিতে হচ্ছে। উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির ফলে রিজার্ভে বাড়তি চাপ পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন—
“১০ বছর ধরে নতুন অনুসন্ধান না করে আমদানি-নির্ভরতায় ঝুঁকে দেশ এক দশক পিছিয়ে গেছে।”




