যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করলে রাশিয়াও করবে: পুতিন

fd100eab8c0573c2d014d3758988cfc35b0467841cb214ec.jpg
আনোয়ার হোসেন

যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করলে রাশিয়াও করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘অবিলম্বে’ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সেই সঙ্গে এরই মধ্যে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাবনা তৈরি করতে ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ফের পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই ধরনের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। এ কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মস্কো ও বেইজিং তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

 
ট্রাম্পের এই নির্দেশের পর পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার (৫ নভেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে মিনিটম্যান থ্রি নামের ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
 
মিনিটম্যান থ্রি ক্ষেপণাস্ত্র ১৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এটি ঘণ্টায় ২৪ হাজার কিমি বেগে ছুটতে সক্ষম। যা ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিক থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত।
 
ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে বুধবার এর সবশেষ পরীক্ষা চালানো হলো। তবে এতে কোনো পরমাণু অস্ত্র ছিল না। ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্ভরযোগ্যতা, যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং নির্ভুলতা যাচাই করাই এই পরীক্ষার লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
 
বুধবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৪ হাজার ২০০ মাইল (প্রায় ৬ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার) অতিক্রম করে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ প্রজাতন্ত্রের কোয়াজালিন অ্যাটলের রোনাল্ড রিগ্যান ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স টেস্ট সাইটে আঘাত হানে।
 
এদিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন তার নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে (সিটিবিটি) স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালায়, তাহলে রাশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
 
এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশেষ বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বেসামরিক সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন।
 ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মস্কো আর কোনো পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালায়নি। কিন্তু ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়ার ব্যর্থতার কারণে পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের হতাশা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
 
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসভ আর্কটিক অঞ্চলের নভায়া জেমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে অবিলম্বে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর জবাবে পুতিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়, তাহলে রাশিয়াও একই পথ অনুসরণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top