এনইআইআরে মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ১০ লাখ মানুষের রুজি-রুটির উদ্বেগ

1761882310-718c64db364a36b690a522b5076ec9d9.webp
আনোয়ার হোসেন

এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রার) বাস্তবায়ন হলে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ১০ লাখ মানুষের রুজি-রুটির উদ্বেগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত আমরা স্বাগত জানাই; কিন্তু নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে আন-অফিসিয়াল ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ না করে সিদ্ধান্ত নিলে এটি লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

২৬ বছরের শ্রমে গড়ে তোলা ইকোসিস্টেমে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসা ও আনুমানিক ১০ লাখ মানুষের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল এই খাত। সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, সবার জন্য সমান আমদানির সুযোগ ও সিন্ডিকেট-নিয়ন্ত্রিত অনৈতিক প্রথা বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বিপণী বিতানের মোবাইল ব্যবসায়ীরা মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিটিআরসি কর্মকর্তাদের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি, বাংলাদেশের সভাপতি মো. আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াসসহ নেতারা বিটিআরসির একজন মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বিটিআরসির সামনে বিভিন্ন মার্কেটের মোবাইল ব্যবসায়ীরা অবস্থান নেন।

টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর সিস্টেম চালুর ঘোষণা দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিটিআরসি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল সেটের ব্যবহার বন্ধ হবে।

এনইআইআর চালুর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানতে পেরেছি সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। দেশীয় বাজারে কর ফাঁকি, অপরাধ সংক্রান্ত ডিভাইস ও চুরি-ছিনতাই হওয়া মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্দেশ্যে এ ব্যবস্থা আনার কথা বলা হচ্ছে। আমরা সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি- এই নীতিনির্ধারণ ও প্রস্তুতকারী প্রক্রিয়ায় আমাদের মতো ব্যাপক অংশীদারদের পরামর্শ বা অংশগ্রহণ কার্যত অনুপস্থিত রয়েছে। দেশের আনুমানিক ৬০ শতাংশ আন-অফিসিয়াল (বাজারের একটি বড় অংশ) হ্যান্ডসেট ব্যবসা আমাদের মাধ্যমে চলে; সুতরাং আমাদের মতো শতকরা ৯৫ ভাগ সাধারণ ব্যবসায়ীকে এ সিদ্ধান্ত প্রণয়নের স্টেজে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত ছিল।

এনইআইআর বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীরা গুরুতর সমস্যা ও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top