ভোলার মেঘনা নদীতে শীতের আগমনে পোয়া মাছের রমরমা শিকারের চিত্র

Screenshot_11.png
আনোয়ার হোসেন

ভোলার মেঘনা নদীতে শীতের হাওয়া লাগতেই ইলিশের বদলে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে পোয়া মাছ। জেলেদের ভাষ্য, তাদের জালে ইলিশ মিলছে হাতে গোনা, তবে পোয়া মাছের শিকারের কারণে নদী ও ঘাটে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

শনিবার তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহিরুদ্দিন ও রোববার ভোলা সদর উপজেলার মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নৌকাবাসী জেলেদের ঝুড়ি ঝুড়ি পোয়া মাছ উঠছে। স্থানীয় বাজারে দাম কম হলেও ঢাকার বাজারে এগুলো দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

ভোলা জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্যমতে, পোয়া মাছকে স্থানীয়ভাবে ‘পোয়া’ বা ‘পামা’ নামেও ডাকা হয়। বড় পোয়া মাছের বায়ুথলি শুকিয়ে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা এর বাজারমূল্য বাড়িয়ে দেয়।

জেলেদের ভাষ্য, ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে মেঘনার মধ্যবর্তী চরের আশপাশে পোয়া মাছের প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য চরের মধ্যে রয়েছে:

  • বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিমউদ্দিন সংলগ্ন চর

  • দৌলতখান উপজেলার পাতারখাল ও হাজিপুর চর

  • তজুমদ্দিন উপজেলার চর রায়াহান, চরমোজাম্মেল, চর জহিরুদ্দিন

  • মনপুরা উপজেলার কলাতলী

চর জহিরুদ্দিনের ‘বরিশাল মাছঘাট’-এর ব্যবসায়ী মজিবল হক হাওলাদার বলেন, “একেক জেলে এক থেকে দেড় মণ পর্যন্ত পোয়া মাছ পাচ্ছেন। ঘাটে এসব মাছ মণপ্রতি ৬ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হচ্ছে।” ঢাকার বাজারে পোয়া মাছ কেজি প্রতি ২৫০–৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন জানান, ইলিশের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেরা নেমেছেন। বর্তমানে ইলিশের চেয়ে পোয়া ও অন্যান্য মাছের শিকারের সম্ভাবনা বেশি। এতে জেলেদের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব বিরাজ করছে।

শীতের শুরুতে নদীতে পোয়া, তাপসী, বোয়াল, পাঙাশ ও বড় কোরাল ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে এসব মাছ ধরার জন্য আলাদা জাল প্রয়োজন, কারণ ইলিশের জালে এগুলো কম ধরা পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top