রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকম্প আসন্ন

1764296772-603f76a271381f367fdf616ceac9f369.webp
আনোয়ার হোসেন

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক করেছেন, দেশে একটি ‘রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকম্প’ আসন্ন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সম্প্রতি একটা বড় ভূমিকম্প দেখেছেন। কিন্তু এর চেয়ে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে, সেটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকম্প।’

ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘ব্যাংক খাতের গোপন খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, পুঁজি ঘাটতি—সব সংকট একে একে সামনে আসছে। ব্যাংকের শরীরে যে এত রোগ, তা আগে জানা যায়নি।’

তিনি বিনিয়োগ স্থবির, নীতিগত স্বচ্ছতা কম এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না থাকায় অর্থনীতির চাপের কথা উল্লেখ করেন।

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, সরকার সংস্কার ইস্যুতে রিলেরেসের মতো করে দৌড়াবে। আমরা দেখছি তারা দৌড়াতে দৌড়াতে লাঠিটা ফেলে দিয়েছে। এখন লাঠি ছাড়াই দৌড়াচ্ছে।’

তিনি মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও শ্বেতপত্র অনুসারে ব্যবস্থা না নেওয়ার সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশের পুঁজিবাজার ৫০ শতাংশ ডাউন হয়েছে। এই বাজার অনাথের মতো, দেখার কেউ নেই।’ তিনি ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে ‘বেইলআউট’ বলে আখ্যায়িত করেন।

অনুষ্ঠানে ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সাবেক সচিব ফারুক হোসেনসহ অর্থনীতি ও সাংবাদিকতা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনো বড় সংস্কার ছাড়া মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে বড় বিদেশি বিনিয়োগ আনার ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয়। নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের (এনডিএ) আড়ালে এমন সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতার অভাব তৈরি করে।’

তিনি আরো বলেন, অংশীজনকে সম্পৃক্ত না করে নেওয়া বড় সিদ্ধান্ত টেকসই হয় না। পূর্ববর্তী সরকারের অসম চুক্তিগুলোর স্বচ্ছতা না থাকায় মানুষের সন্দেহ এখনো কাটেনি।

পলিসি রেট কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সিদ্ধান্ত উপযোগী হলেও সংকোচনমূলক নীতি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এখন অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে ফেরাতে হলে জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং ব্যাবসায়িক প্রতিবন্ধকতার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top