‘বুকভরা হতাশা’ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আরিফুল ইসলাম তালুকদার।
২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়ক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। চিঠিতে তিনি জানান, দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিয়ম ও আচরণগত সংকট আরও বেড়েছে।
তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনে যুক্ত তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ার স্বপ্ন ভেস্তে গেছে কিছু হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী আচরণের কারণে।
চিঠিতে তিনি আরও দাবি করেন, একই প্রেক্ষাপটে উঠে আসা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়েছে এবং আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এতে জাতীয় ঐক্য নষ্ট হয়েছে এবং পুরো ‘জুলাই বিপ্লব’ বিবর্ণ হয়ে গেছে—যা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
আরিফুলের অভিযোগ, জুলাইয়ের আহতদের তালিকাকরণে অবিচার হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এখনো একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সচিবালয়সহ ৯০ শতাংশের বেশি জায়গায় পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলারা বহাল আছে। গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হয়নি, অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও লেখেন, গত তিনটি নির্বাচন যাঁরা ‘মাফিয়ার হয়ে’ করেছেন। সেই আমলাদের মাধ্যমেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। অথচ এসব নিয়ে দল কোনো কথা বলছে না। তাঁর দাবি, একের পর এক ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, বলয় সৃষ্টি ও দুর্নীতির দায়ভার তাকেও নিতে হচ্ছে।
বিপ্লবোত্তর সংকটের দায় দলের নেতৃত্বের উপর বর্তায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে যারা বছর ধরে কাজ করেছেন—তাদের স্বীকৃতি কুক্ষিগত করা হয়েছে। দেশের দায়িত্ব হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কাজেও দল ব্যর্থ হয়েছে। দেড় বছরে ব্যর্থতা ও অনৈক্য ছাড়া তেমন কোনো সাফল্য পাওয়া যায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের সময় আন্তর্জাতিক যোগাযোগগুলো তিনি সম্পন্ন করেছিলেন এবং ‘মাফিয়ার পলায়নে’ তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। “জুলাইকে পণ্য মনে করি না, জুলাইকে অনুভব করি”—চিঠিতে এ কথাও লেখেন তিনি।
আরিফুলের দাবি, এনসিপি তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করতে পারেনি, জাতীয় ঐক্য নষ্ট করেছে এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রেখেছে। আরও অভিযোগ করেন—দলটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে উদাসীন এবং দলের নিয়ন্ত্রণ এমন এক বলয়ের হাতে চলে গেছে যারা জনগণের অনুভূতি ধারণ করে না, বরং বিদ্বেষ লালন করে।
“সব মিলিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় এই দলের সঙ্গে থাকার প্রয়োজন বোধ করছি না। তাই বুকভরা হতাশা নিয়ে পদত্যাগ করছি”—চিঠির শেষাংশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।




