প্রাচীন চীনা নথির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। এসব তথ্য পৃথিবীর ঘূর্ণনগতির প্রাচীন ইতিহাস বুঝতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে। গবেষণাটি ২ ডিসেম্বর অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ প্রকাশিত হয়।
🔹 খ্রিষ্টপূর্ব ৭০৯ সালের সূর্যগ্রহণের বর্ণনা
গবেষকেরা জানিয়েছেন, খ্রিষ্টপূর্ব ৭০৯ সালের ১৭ জুলাই ঘটে যাওয়া সূর্যগ্রহণের বিবরণ পাওয়া যায় চীনের প্রাচীন নথি ‘স্প্রিং অ্যান্ড অটাম অ্যানালস’-এ।
যদিও নথিটি গ্রহণের ঘটনা ঘটার প্রায় দুই–তিন শতাব্দী পরে লেখা হয়েছিল, তবুও সেখানে পাওয়া তথ্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।
পরে আরও একটি গ্রন্থ ‘বুক অব হান’–এ সূর্যকে “উপরে–নিচে পুরো হলুদ” বলে বর্ণনা করা হয়। গবেষকদের মতে, এটি সূর্যের বাইরের উজ্জ্বল বৃত্ত (কোরোনা) সম্পর্কে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো লিখিত বর্ণনা হতে পারে।
🔹 ভুল মানচিত্র সংশোধন করে মিললো সঠিক হিসাব
আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব প্রয়োগ করে গবেষকেরা পুরোনো নথির তথ্য যাচাই করেন।
প্রথমদিকে দেখা যায়—কুফু শহর থেকে উল্লিখিত সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হয়নি।
তবে ঐতিহাসিক মানচিত্র পুনর্বিবেচনা করে জানা যায়, আগের গবেষণায় কুফুর অবস্থান ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল—প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের কোঅর্ডিনেট ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ ভুল সংশোধন করার পর পৃথিবীর সে সময়কার ঘূর্ণনগতির নতুন, আরও নির্ভুল হিসাব পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া সূর্যের অবস্থান, গ্রহণের ধরন এবং কোরোনার দৃশ্য কেমন ছিল—তারও নির্ভুল সিমুলেশন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
🔹 গবেষকদের মন্তব্য
জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল অবজারভেটরির গবেষক মিতসুরু সোামা বলেন,
“নতুন হিসাব আগের অনেক গবেষণার ভুল সংশোধন করেছে। অতীতের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলোর তারিখ এখন আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যাবে।”
প্রাচীন যুগে মানুষ সূর্যগ্রহণ, অরোরা, ধূমকেতুর মতো আকাশগত ঘটনাকে শুভ-অশুভ লক্ষণ মনে করে নথিভুক্ত করত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
লকহিড মার্টিন সোলার অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ল্যাবের গবেষক মেং জিন বলেন,
“প্রাচীন নথি আর আধুনিক গণনার সমন্বয়ে আমরা হাজার বছরের পুরোনো পৃথিবী ও সূর্যের আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাচ্ছি।”




