ভারত থেকে আমদানি বন্ধ ও যোগান কম থাকায় খুচরা বাজারে কেজি ১২০ টাকা পর্যন্ত
দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে নিত্যপণ্যটির দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
বুধবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১১০–১২০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে এর দাম ৯৫–১০৫ টাকা।
মৌসুম শেষে যোগান কম, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ
ব্যবসায়ীদের দাবি, মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার প্রভাব।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য—যোগান স্বল্পতার কারণে পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে বাজারে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ছে।
“গতকাল ১০০, আজই ১২০”—দাম প্রতিদিনই বাড়ছে
রাজধানীর গুদারাঘাট কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন—
“গতকাল বেচছি ১০০ টাকা, আজ মান ভেদে ১১৫–১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনি, সেই হিসেবেই তো বিক্রি করি। কয়েকদিন ধরেই দাম প্রতিদিনই বাড়ছে।”
চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পাইকারদের সতর্কতা
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও রাজশাহীর পাইকাররা বলেন—
-
ভারতীয় পেঁয়াজের আইপি (Import Permit) বন্ধ থাকায় সম্পূর্ণ চাপ দেশি পেঁয়াজের ওপর
-
চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ বাড়ছে না
-
যোগান না বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে
তাদের মতে, বাজার স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত আমদানি বা অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
দাম বাড়ার কারণ নেই—বলছে ক্যাব
অন্যদিকে বাংলাদেশ কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) বলছে, বাজারে বাড়তি দামের যৌক্তিক কারণ নেই। তাদের দাবি—
-
মজুতদারি ও সরবরাহ শৃঙ্খলার অস্বচ্ছতা
-
বাজার মনিটরিং দুর্বলতা
-
ক্রেতা–বিক্রেতার তথ্য অসমতা
এই কারণেই মূলত দামের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।




