ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারী ও তার সহযোগিদের পুলিশ ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে। তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের হাতের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষা করা হচ্ছে।
প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য শুক্রবার রাতেই দেশের সব ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সন্দেহভাজনদের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে একাধিকবার সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হলেও বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পুলিশ ইতোমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনের চলাচলের খতিয়ান বা ট্রাভেল হিস্ট্রি সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যায়, আইটি ব্যবসায়ী পরিচয়ে তিনি গত কয়েক বছরে একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই সিঙ্গাপুর ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ইতোমধ্যে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে।
হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে, ভারতে অবস্থানকারী পলাতক অপরাধী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার অসাধু উদ্দেশ্যে ক্রমাগত উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তার দলের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর নির্দেশনা দিচ্ছেন।
ভারত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন অনতিবিলম্বে তার এবং ভারতে পলাতক তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের এ ধরনের ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়।
এছাড়া শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে এ আশঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে এবং কেউ ভারতে পালাতে সক্ষম হলে তাদেরকে যেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত আটক করে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেয়।




