ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশের প্রভাবে নয় বরং নিজের বিবেচনা থেকেই ইরানে আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘কেউ আমাকে বোঝায়নি, আমি নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছি।’
সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছিল বলে গুঞ্জন ওঠে। তবে ফ্লোরিডায় যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন যে, কেউ তাকে বোঝায়নি এবং এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে ইরানের সাম্প্রতিক একটি পদক্ষেপ। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বাতিল করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইরানে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সহিংসতা ও আটকের ঘটনা ঘটেছিল এবং শত শত মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু ইরানের নেতৃত্ব সেই কঠোর পথ থেকে সরে আসায় ট্রাম্পের মনোভাবে পরিবর্তন আসে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি ইরানের নেতৃত্বের প্রতি অত্যন্ত সম্মান জানাই, যারা সব নির্ধারিত ফাঁসিকে বাতিল করেছেন, যা গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ধন্যবাদ!”
এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানায়, টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৮০০টি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড ‘স্থগিত’ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতি “সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ” করছে। ট্রাম্প বারবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তার ভাষায়, কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নে সেখানে হাজারো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে ও প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিতে’ আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘সহায়তা আসছে।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হলে তেহরানকে ‘খুব কঠোর পদক্ষেপের’ মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে এসবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, নিউ ইয়র্ক পোস্ট




