মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক সেলিম শেখ। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই কপি সাধারণ কপির তুলনায় স্থানীয় বাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মাঝে এ ধরনের সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কুসুমপুর বাজারের পাশে এ বছর প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে সাদা, গোলাপি ও হলুদ রঙের ফুলকপি এবং সাদা ও বেগুনি রঙের বাঁধাকপি (রেড ক্যাবেজ), ব্রকলিসহ মোট ৬ ধরনের কপি চাষ করেছেন তিনি। এছাড়া লাউ, টমেটো, খিরাই, উস্তা, ধনেপাতা, শিম, মুলা ও বেগুনসহ মোট ২৮০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষক সেলিম শেখ বলেন, ‘আলু চাষে টানা লোকসান হওয়ায় প্রথমে টমেটো চাষ শুরু করি। আলুর চেয়ে সবজি চাষে লাভ বেশি হওয়ায় এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠি। সেই থেকে এ বছর রঙিন বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ ১৮ থেকে ২০ ধরনের সবজি চাষ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ বছর ২০ শতাংশ জমিতে ব্রকলি চাষ করেছেন। এর পাশাপাশি রঙিন সবজি চাষে সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি অফিস তাকে সব ধরনের কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা মূলত আলু চাষের জন্য বিখ্যাত হলেও সিরাজদিখানে আলুর পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্রকলি, টমেটো, ক্যাপসিকাম, তরমুজ, কালোজিরা, ধনিয়া, চিনাবাদাম, পেঁয়াজ, রসুন ও সরিষাসহ মোট ৮০টি প্রদর্শনী প্লট এ উপজেলায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব প্রদর্শনী দেখে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি অন্য কৃষকরাও সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সিরাজদিখানের কৃষি শুধু আলুনির্ভর না থেকে বৈচিত্র্যময় কৃষিতে রূপান্তরিত হবে।




